যুগান্তকারী আবিষ্কার। বিজ্ঞানীরা এমন এক অভিনব স্প্রে-অন পাউডার তৈরি করেছেন, যা মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই গুরুতর ক্ষত সিল করে রক্তপাত বন্ধ করতে সক্ষম। দক্ষিণ কোরিয়ায় তৈরি এই পাউডার রক্তের উপাদানের সঙ্গে বিক্রিয়া করে সঙ্গে সঙ্গেই জেলের মতো স্তর তৈরি করে, যা ক্ষতস্থানে শক্ত বাধা গড়ে তোলে এবং প্রাণঘাতী রক্তক্ষরণ থামিয়ে দেয়। জরুরি চিকিৎসা ও যুদ্ধক্ষেত্রের চিকিৎসায় বড়সড় সাফল্য দাবি করলেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিজ্ঞানীরা। কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (KAIST)-এর গবেষকরা এমন এক অত্যাধুনিক স্প্রে-পাউডার তৈরি করেছেন, যা মারাত্মক রক্তক্ষরণ এক সেকেন্ডের মধ্যেই থামিয়ে দিতে সক্ষম। এই নতুন হেমোস্ট্যাটিক পাউডারের নাম দেওয়া হয়েছে AGCL Powder। KAIST-এর ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক স্টিভ পার্ক এবং বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক সাংইয়ং জন-এর নেতৃত্বে যৌথ গবেষক দল এই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন।
গবেষকদের দাবি, রক্তের সংস্পর্শে এলেই এই পাউডার শক্ত জেলের মতো স্তর তৈরি করে ক্ষতস্থানকে সম্পূর্ণভাবে সিল করে দেয়। ফলে বাইরে থেকে বাতাস বা জীবাণু ঢোকার সুযোগ থাকে না এবং মুহূর্তের মধ্যেই রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায়। পরীক্ষাগারে করা বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, গভীর ও জটিল ক্ষতেও AGCL Powder এক সেকেন্ডের মধ্যে কার্যকরভাবে কাজ করেছে।
এই পাউডার মূলত বিশেষ ধরনের জৈব-সহনশীল (biocompatible) উপাদান দিয়ে তৈরি, যা মানবদেহের জন্য নিরাপদ। গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি ব্যবহারের সময় আলাদা করে চাপ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। শুধু ক্ষতস্থানে স্প্রে করলেই তা নিজে থেকেই কাজ শুরু করে দেয়। ফলে দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা দূরবর্তী এলাকায় জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।
KAIST-এর অধ্যাপক স্টিভ পার্ক জানান, “বর্তমান হেমোস্ট্যাটিক পদ্ধতিগুলির তুলনায় এই পাউডার অনেক দ্রুত কাজ করে এবং ব্যবহারে অত্যন্ত সহজ। ভবিষ্যতে এটি সামরিক চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে বিপ্লব আনতে পারে।” অন্যদিকে অধ্যাপক সাংইয়ং জন বলেন, “রক্তপাতের কারণে বহু মৃত্যু ঘটে শুধুমাত্র সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার জন্য। AGCL Powder সেই সময়ের ব্যবধান কমিয়ে আনতে সক্ষম।”
গবেষকদের মতে, এই পাউডার তাপমাত্রা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রতিও বেশ সহনশীল, ফলে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব। বর্তমানে প্রাণীর ওপর সফল পরীক্ষার পর মানবদেহে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এটি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের অনুমোদন পেতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, এই আবিষ্কার জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকা, যুদ্ধক্ষেত্র ও বড়সড় দুর্ঘটনার সময় যেখানে দ্রুত রক্তপাত বন্ধ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে AGCL Powder প্রাণরক্ষাকারী হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।









Leave a Reply