ডজন খবর: কনের বয়স ২২, বরের ৬০ বছর! ইন্টারনেটে এই মুহূর্তে ঝড় তুলেছে এমনই চাঞ্চল্যকর প্রেম থেকে বিয়ের ঘটনায়। ইতালির ২২ বছরের জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সার মিনেয়া পাগনি বিয়ে করেছেন তাঁরই প্রাক্তন হাইস্কুল দর্শনের শিক্ষক মাসিমোকে, যাঁর বয়স ৬০ বছর। দু’জনের বয়সের ফারাক প্রায় ৩৮ বছর। যা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। খবরে প্রকাশ, পাঁচ বছর আগে প্রথম আলাপ হয়েছিল ক্লাসরুমে। তখন মিনেয়ার বয়স ছিল মাত্র ১৭। মিনেয়ার দাবি, সেই সময় কোনও প্রেমের সম্পর্ক ছিল না শুধু শিক্ষকের বুদ্ধিমত্তা ও চিন্তাভাবনার প্রতি শ্রদ্ধা ছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, “ওঁর কাছ থেকেই শেখার আগ্রহ, নিজেকে গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা পেয়েছি। সেই শ্রদ্ধার মধ্যেই ধীরে ধীরে একটি অনুভূতি জন্ম নিয়েছিল।”
দু’বছর আগে, প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর হঠাৎই এক বইয়ের দোকানে আবার দেখা। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব, আর তারপর প্রেম। গত বছর ডিসেম্বরে বিয়ে করেন তাঁরা। মিনেয়ার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট @diaryofminea-তে বিয়ের ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হতেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ মানুষ দেখেছেন সেই পোস্ট। শুরু হয়েছে নানা প্রশ্ন। কেউ বলছেন ‘গোল্ড ডিগার’ (অর্থের লোভে প্রেম), কেউ আবার শিক্ষক-ছাত্রীর অতীত সম্পর্ক নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করছেন। এমনকী পুরনো একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে তুলনা করা হয়েছে মিনেয়া যখন জন্মেছিল তখন মাসিমোর বয়স ছিল ৩৯।
সমালোচনার জবাবে মিনেয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ”আমি ওঁকে বিয়ে করেছি তাঁর মানুষটার জন্য মন, মূল্যবোধ আর ভালোবাসার জন্য।’তিনি আরও বলেন, “একজন মহিলার সিদ্ধান্তকে শুধু টাকার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সবচেয়ে পুরনো ও অন্যায় স্টেরিওটাইপ।”মিনেয়ার কথায়, “ভালোবাসা বয়স বোঝে না। সমাজের ভয় আর সংকীর্ণতাই এই সমালোচনার আসল কারণ।”
বর্তমানে মিনেয়া চিকিতসাশাস্ত্র বা মেডিসিন নিয়ে পড়ছেন। তাঁর দাবি, এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে পারস্পরিক সম্মান, বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ এবং সত্যিকারের ভালোবাসার উপর। শুরুতে তাঁর বাবা-মা একটু চিন্তিত ছিলেন, তবে মেয়ের স্থিতি ও সুখ দেখে তাঁরাও সম্পর্ক মেনে নিয়েছেন। তবে নেটদুনিয়া এখনও দু’ভাগে বিভক্ত। একদল বলছেন, ‘লাভ ইজ লাভ’, আবার অন্যদল এই সম্পর্ককে ‘অস্বাভাবিক’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।










Leave a Reply